সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির বিচার দীর্ঘ ৭ বছরেও হয়নি!

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ডের সপ্তম বার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রাজাবাজারে শয়নকক্ষে তাদের খুন করা হয়। এমন দুঃখজনক ঘটনার সাত বছরেও বিচার না হওয়ায় নিহতদের পরিবার, সাংবাদিক সমাজসহ সচেতন দেশবাসী যারপরনাই বিস্মিত ও ব্যথিত।

হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হওয়ায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে দায়ীদের গ্রেফতার করা হবে। আইজিপি সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে ৭২ ঘন্টার মধ্যে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে সাংবাদিকদের জানান। তথ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, দায়ীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত চোখের পানি থামবে না।

কিন্তু না, আজ সাত বছর অতিবাহিত হতে চলছে, বিচারের নামে সময়ক্ষেপণ চলছে। দায়ীদের গ্রেফতারপূর্বক ন্যায় ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন হয়। দলমত নির্বিশেষে সাংবাদিক সমাজসহ সচেতন দেশবাসীর পক্ষ থেকে একই দাবি জানানো হয়। লাগাতার আন্দোলনের পরও আজ পর্যন্ত সাগর-রুনি দম্পতির বিচারকাজ সম্পন্ন হয়নি।

প্রকৃত খুনীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট, অনশন, ঘেরাও কর্মসূচি ঐক্যবদ্ধভাবে পালন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন- বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন- ডিইউজে, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি- ডিআরইউ। যুগপৎ আন্দোলনের পরও চিহ্নিত খুনিদের গ্রেফতার ও শাস্তির আওতায় আনা যায়নি।

কী এক রহস্যজনক কারণে সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যায়। আদালত থেকে দায়িত্ব দেওয়ার র্যা বকে, কিন্তু তার পরও সময়ক্ষেপণ চলছে। এ পর্যন্ত আদালতে ৬৭ বার সময় চাওয়া হযেছে আইনশৃখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে। ফলে সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন সৃষ্টি হযেছে নিহতদের পরিবার ও সাংবাদিক সমাজের মধ্যে।

প্রশ্ন উঠছে, এত আণ্দোলন-সংগ্রামের পরও এমন একটি ন্যক্কারজনক ঘটনার বিচার না হওয়ায় সাংবাদিকদের উপর সাম্প্রতিক হামলা-মামলা-নির্যাতন-গ্রেফতার ডালভাতে পরিণত হয়েছে। সমাজে এ সত্য প্রতিষ্ঠা পেতে যাচ্ছে যে, সাংবাদিকদের হত্যা করে যখন পার পাওয়ায়, তখন অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে ওই ঘটনার পর সাংবাদিক নির্যাতন আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়।

সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতি হত্যাকাণ্ডের সপ্তমবার্ষিকীতে সাংবাদিক সমাজ বেদনায় নীল। সহকর্মীর প্রতি তাদের অশেষ ঋণ। সে ঋণ কিছুটা হলেও পূর্ণ হতো, যদি খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা যেত। মামলার শ্লথগতি বলে দিচ্ছে, এটির গন্তব্য বা ভবিষ্যৎ কতটা অনিশ্চিত। যে সমাজে একটি চাঞ্চল্যকর হত্যার বিচার, দায়ীদের গ্রেফতার ও হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপটি উদ্ধারে এত সময়ক্ষেপণ, সে সমাজে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কা জাগাই স্বাভাবিক বৈকি।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির সপ্তম হত্যাকাণ্ড বার্ষিকীতে বিচার না পেয়ে সাংবাদিক সমাজ তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ভীতিকর অবস্থায়। পেশাগত দায়িত্ব পালনে তারা আজও শঙ্কামুক্ত হতে পারছে না। কারণ ঘরে-বাইরে-রাজপথে এমনকি কর্মস্থলেও তারা যে নিরাপদ নন, ইতিমধ্যে তার অসংখ্য দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গেছে। নতুন করে এসব বলার প্রয়োজন নেই।

সাংবাদিক সমাজ মনে করে, সাগর-রুনি দম্পতিসহ অপঘাতে নিহত সব সাংবাদিকের বিচার হওয়া দরকার। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত সাংবাদিক সমাজের ন্যায়সঙ্গত দাবি। সে দাবি পূরণে যত সময়ক্ষেপণ করা হবে, ততই পেশাগতভাবে সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন বাড়বে আর ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে প্রশ্ন থেকেই যাবে। এই প্রশ্ন দূর করতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির বিচারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech