গণমাধ্যমজুড়ে শুভঙ্করের ফাঁকি- ৪

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : গণমাধ্যমে কর্মরতদের অবস্থা কতটা সঙ্গীণ, তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃস্থ ভাতা দেওয়ার মধ্য দিয়ে। সরকার প্রধান প্রায়ই এ ভাতা আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে থাকেন।পেশাদার সাংবাদিকদের আর্থিক করুণ অবস্থা ও সামাজিক মর্যাদা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, তার অকাট্য প্রমাণ দুঃস্থ ভাতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে অবস্থিত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নে আর্থিক কষ্টে থাকা সাংবাদিকদের নীরব কান্না প্রায়ই চোখে পড়ে।দুঃস্থ ভাতার জন্য নাম তালিকাভুক্ত করতে তাদের নেতাদের কাছে ধরনা দিতে দেখা যায়।প্রায়ই কানে আসে, ‘ভাই দুপুরে খাই নাই, বাসায় যাওয়ার ভাড়া নাই, বাসায় খাবার নাই, বাচ্চার দুধ নাই, বাচ্চাকে ভর্তি করা পারছি না্, স্কুল থেকে বাচ্চাকে বের করে দিচ্ছে, বাড়িওয়ালা ঘরে তালা ঝুলিয়েছে, কমলাপুর স্টেশনে বউ-বাচ্চা নিয়ে আছি’ হৃদয়ে দাগ কাটা শব্দগুলো।

দীর্ঘ দেড় যুগ ইউনিয়নের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকার সুবাদে এ আবেদন সৃষ্টিকারী শব্দগুলো শুনতে হয়।সঙ্গে শুনতে হয়িএকটা চাকরির কথা।তার চেয়ে বেশি শুনতে হয়, কর্মস্থলে পাওনাদি না পাওয়ার ধারাবাহিক আর্থনাদ।সম্পাদক হিসেবে টিভি টক শোগুলোয় যারা বড় বড় সুন্দর সুন্দর কথা বলেন, তারাই সংবাদকর্মীদের ঠকানোর ক্ষেত্রে এগিয়ে।অথচ তারা এ জন্য বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে নানা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন।

২২ মাসের পাওনাদি না পেয়ে একটি পত্রিকার নিজস্ব ভবনের উপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন একজন নারী সংবাদকর্মী।দীর্ঘদিন আর্থিক অনটনে ভোগে আত্মহননের পথ বেছে নেন বরিশালে বাবর আলী নামের এক সাংবাদিক।এভাবে ফিরিস্তি দিলে অনেক দেওয়া যায়। গণমাধ্যম কর্মীদের চলমান এ নীরব কান্না কবে থামবে, কেউ জানে না।একশ্রেণীর মালিকপক্ষের চলমান এ প্রতারণা বন্ধে ফলপ্রসূ উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

স্পষ্ট করে বললে, যাদের আয়ের একমাত্র উৎস সাংবাদিকতা, তাদের সমস্যাটা প্রকট। বেতন-ভাতা নিয়ে একশ্রেণীর মালিকপক্ষের টালবাহানার কারণে পেশাদার সাংবাদিকদের আর্থিক অনটন নিত্যসঙ্গী। যাদের চাকরি দীর্ঘদিন নেই, তাদের অনেকের অবস্থা অবর্ণনীয়। চলমান পরিস্থিতি পেশাদার সাংবাদিকদের বাধ্য করছে, আয়ের জন্য সাংবাদিকতার পাশাপাশি অন্য কিছু করতে।

সব পেশায় কমবেশি খারাপ লোক থাকে। সাংবাদিকদের ব্যাপারেও নানা কআ শোনা যায়। অনেকেই নাকি থানা থেকে টাকা আনে।টাকার দরকার হলে থানায় গিয়ে বসে থাকে।কেউ কেউ নাকি পুলিশের পরমায়েশও খাটে। আবার সোর্স হিসেবেও নাকি কেউ কেউ কাজ করে।চাঁদাবাজি করে নাকি অনেকে। অনেককেই দেখা যায়, চাকরি নেই; কিন্তু বেশ আছে।গাড়িও হাঁকায়, ফ্ল্যাটও নাকি আছে।

এসব কাজ পেশাদার সাংবাদিকদের যারপরনাই হতাশ করে, করে ক্ষুব্ধ।একশ্রেণীর মালিকপক্ষের অনিয়মের কারণে হয়তো কিছু সাংবাদিক ওইদিকে পা বাড়াচ্ছে, যা দুঃখজনক।সংবাদকর্মীদের ঠকানোর ব্যাপারটি ক্রমেই অন্য গণমাধ্যমগুলোয় ভা্ইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।নষ্টভ্রষ্টদের অন্যরা অনুসরণ করছে।এতে গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।এর রেশ টেনে ধরতে দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে ঠকবাজ ও প্রতারক মালিকদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান সময়ের দাবি।

চলবে-

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech