রাজধানী ঢাকায় মারাত্মক বায়ুদূষণ, জলবায়ুর ফান্ড নিয়ে হরিলুট!

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : বায়ুদূষণের দিক দিয়ে আমাদের রাজধানী ঢাকা বর্তমানে বিশ্ব রেকর্ডে এক নম্বরে। ২০১৫ সালে যা ছিল তিন নম্বরে। বায়ুদূষণ মারাত্মক হারে বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীতে বসবাসকারী নাগরিকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে যারপরনাই উদ্বিগ্ন।

বায়ুদূষণ রোধে বিদেশ থেকে আনা ঋণ নিয়ে হরিলুট চলছে বলে অভিযোগ আছে। একটি মহল বিদেশ থেকে এ জন্য বড় বড় ফান্ড এনে হজম করে দিচ্ছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। পরিবেশ নিয়ে কাজ করার নামে অতীতে কিছু সংগঠনের কর্তাব্যক্তিরা ফান্ড এনে নিজেদের আর্থিক উন্নতি ঘটিয়েছে।

আশার কথা, আমাদের সর্বোচ্চ আদালত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে বিশ্বব্যাংকের দেয়া ৩০০ কোটি টাকার ঋণ কোথায় কীভাবে ব্যয় হয়েছে– তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ায় সচেতন জনগোষ্ঠী স্বস্তি পেয়েছে।

পাশাপাশি টায়ার পুঁড়িয়ে পরিবেশের ক্ষতিকারী তেল উৎপাদন করা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেও প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের দ্বৈত বেঞ্চ শুনানিকালে এই আদেশ দেন।

বায়ুদূষণ নিয়ে একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। শুনানিতে হাইকোর্ট আরো বলেন, রাজধানীর সড়ক তৈরির অপচয়মূলক দুর্বল পরিকল্পনা, ঘন-ঘন মেরামত এবং দুর্নীতি– পরিবেশদূষণে মারাত্মক ভূমিকা রাখছে। এর আগে দূষণ রোধে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ নামের সংগঠনটি এই রিট করে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, ঢাকা শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। ২৫ নভেম্বর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকার বায়ু ও শব্দদূষণ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার শুরুতে তিনি এ কথা বলেন।

এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বরের ঢাকা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর। কোনো শহরের দূষণের মাত্রা ৫০ পর্যন্ত হলেই শহরটিকে যেখানে অস্বাস্থ্যকর ও বিপদজনক হিসেবে গণ্য করা হয়, সেখানে ২৪ নভেম্বর ঢাকার দূষণের মাত্রা ছিল ১৯৪! ভাবা যায়, আমরা কতটা ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছি!

চরম উদ্বেগের কারণ হলো, দূষণের সূচক ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। দূষণরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেই। যা আছে তা কাগজের পাতায় আর সভা-সমাবেশে। এ নিয়ে যারা বিদেশী ফান্ড আনছে, তারাই এগুলো ভাগ-বাটায়োরা করে নেয় মর্মে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

যে বা যারা এসব জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ফান্ড নানাভাবে বিভিন্ন সময়ে বিদেশ থেকে এনেছে, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত- প্রতিটি ফান্ডের হিসাব কষে কাজের খবর নিলে দেখা যাবে সভা-সেমিনার-ভোজন ছাড়া তারা পাঁচ পয়সাও এ খাতে ব্যয় করেনি। এটেই নাকি বাস্তবতা।

সর্বোচ্চ আদালত যখন হস্তক্ষেপ করেছেন, এখন আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্ত করলে কেঁচো খুঁজলে যেমন সাপও বেরিয়ে আসে, তেমন ফল মিলবে। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিকদের একটা অংশও পরিবেশ আন্দোলনের নামে বিদেশী ফান্ড এনে পুরোটাই হজম করে বলে চাউর আছে।

আমাদের নদীর পানি নোংরা আর আর্জনায় ভর্তি। নলকূপের পানিতে আর্সেনিক। বাতাসে ক্ষতিকর সিসার পরিমাণ আশঙ্কাজনক। প্রতিনিয়ত আমরা দূষিত বায়ু গ্রহণ করছি। যে পরিবেশে আমরা বাস করছি, সেটা কেবলই বিপর্যয় ডেকে আনছে। আক্রান্ত করছে নানা মরণঘাতী রোগে।

এ অবস্থা মানুষসহ প্রাণীকুলের জন্য চরম ক্ষতির কারণ। পরিবেশকে স্বাভাবিক ও বাসযোগ্য রাখতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য। এ জন্য ক্ষতিকর পলিথিন, প্লাস্টিক উৎপাদন, ইটভাটা, কালো ধোঁয়া উৎপাদনকারী কল-কারখানা-যানবাহন বন্ধের পাশাপাশি সবুজায়নের প্রতি অধিক মনযোগী হওয়া ও গুরুত্ব দেওয়া সময়ের দাবি।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন