সরাইলে নির্মাণের ১৩ বছরেই ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবন, তদন্তের দাবি

  

পিএনএস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সরাইল উপজেলা এলজিডি দুর্নীতির মাশুল কে দিবে জানতে চাই সরাইলে সচেতন মহল আর কত দুর্নীতি হলে সরকারের নজরে পড়বে,
"আমরা যতটুকু সময় ক্লাশে পড়া শিখি, ততটুকু সময়ের মধ্যে যতবার ব্লাকবোর্ডের দিকে তাকাই, এর চেয়ে বেশি বার শ্রেণী কক্ষের ছাদের দিকে তাকাই ; কখন ছাদের খসে পড়া পলেস্টার আমাদের মাথায় পড়ে।" - চোখে মুখে এক অজানা ভয় নিয়ে কথাগুলো বলছিল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সদরের গুনারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থী।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন এই বিদ্যালয়টিতে গেলে প্রধান শিক্ষক দেওয়ান রওশন আরা (লাকী) বলেন, গত তিন বছর আগেই বিদ্যালয় ভবনের ছাদের পলেস্টার, ঢালাই, বিমের ঢালাই খসে পড়তে শুরু করে। এতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণী কক্ষে ভয়ে থাকত। আমি মোটা রং দিয়ে ছাদের খসে পড়া পলেস্টার সাময়িক ঢেকে দেওয়ার চেস্টা করি। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই আবার ছাদের পলেস্টার খসে খসে পড়ছে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, আমরা শিক্ষকরাও শ্রেণী কক্ষে ভয়ে থাকি, কখন ছাদের পলেস্টার আমাদের মাথায় পড়ে।

প্রধান শিক্ষক রওশন আরা আরো বলেন, বিদ্যালয় ভবনের কাঠের দরজাগুলো আড়াই বছর আগেই নষ্ট হয়ে ভেঙে পড়েছে। পরে নিজ উদ্যোগে কাঠের দরজা বানিয়ে লাগিয়েছি। ভবনের লোহার গেইট বহু আগেই ঝং ধরে ভেঙে পড়েছে। নিরাপত্তার কথা ভেবে পুনরায় লোহার গেইট বানানো হয়। ভবনের লোহার দরজা ও জানালা নষ্ট হয়ে গেছে। প্রধান শিক্ষক ভবনের এককোণে পড়ে থাকা জরাজীর্ণ কয়েকটি কাঠের দরজা দেখিয়ে বলেন, এগুলো ভবন তৈরি সময়ে লাগানো দরজা। আমি এগুলো ইচ্ছে করলে ২/৩ শত টাকায় বিক্রি করতে পারতাম। কিন্তু রেখে দিয়েছি কর্তৃপক্ষকে দেখানোর জন্য, সরকারি লক্ষ লক্ষ টাকা বরাদ্দে এই ভবনে কি মানের কাজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই বিদ্যালয় ভবনের সকল সমস্যা বহু আগেই কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এদিকে সরাইল উপজেলা এলজিইডি'র দফতর সূত্রে জানা যায়, গুনারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ভবনটি ২০০৬ সালে ২১ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ১১ বছরেই অর্থাৎ ২০১৭ সাল থেকে এই ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠার কারণ জানতে চাইলে স্থানীয় এলজিইডি'র কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলজিইডি'র এক উপ-সহকারি প্রকৌশলী জানান, একটি ভবন নির্মাণ হওয়ার ৬০ থেকে ৭০ বছর টেকসই হবে কমপক্ষে। কিন্তু এই ভবন নির্মাণের ১১ বছর পরই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে নিশ্চিত বলা যায় ভবনে নিম্নমানের কাজ হয়েছে।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও গুনারা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ এলেম মিয়া বলেন, এই ভবন নির্মাণের সময় ঠিকাদার মনগড়াভাবে কাজ করেছেন। বার বার এ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকি এলজিইডি'র কর্মকর্তাকে কাজের মান খারাপের অভিযোগ করলেও তিনি এতে পাত্তা দেননি। এলেম মিয়া বলেন, বিদ্যালয়ের এই ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা দিতে কর্তৃপক্ষকে বহু আগেই চিঠি দিয়ে অবগত করানো হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, একটি পাকা ভবন নির্মাণের ১১ বছর পর যদি ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তাহলে মানুষ বিল্ডিং নির্মাণ করতেন না। এই ভবন নির্মাণের ঠিকাদার ও এলজিইডি'র কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে গেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech