মিটফোর্ডে ভুল চিকিৎসায় সাংবাদিক আসাদের মৃত্যুর অভিযোগ

  

পিএনএস ডেস্ক: মিটফোর্ড হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোলোজী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমানের গাফলতি ও ভুল চিকিৎসায় সাংবাদিক আসাদের মৃত্যুর অভিযোগ উঠে এসেছে। মৃত আসাদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, ইআরসিপি সার্জারির চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমানের গাফলতি ও অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়। আমরা তার শাস্তির দাবি করছি।

দুই ঘণ্টার ইআরসিপি অপারেশনের মাঝপথেই রোগীর জ্ঞান ফিরে আসলে রোগী যন্ত্রণায় চিৎকার ও লাফালাফি শুরু করে। রোগীর চিৎকারে আশেপাশে থাকা অন্যান্য রোগীরাও ভিড় জমায় অপারেশন থিয়েটারে সামনে। এর ফলে রোগীর থাদ্যনালীতে ক্ষত হয় এবং ওই ক্ষত স্থানে ইনফেকশন হয়ে তার পিত্তথলী, খাদ্যনালী এবং মুত্রাশয় পচে যায়। পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করলে তাকে ত্রিপল বাইপাস সার্জারি অপারেশনে তার পিত্তথলী, খাদ্যনালী এবং মুত্রাশয় ফেলে বিকল্প ব্যবস্থা করে দিলেও অপারেশনের ২৩ ঘণ্টা পর রোগীর মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকরা তাদের অপারগতা স্বীকার করে অপারেশন অসম্পূর্ণের কথা রোগীর আত্মীয়-স্বজনকে জানান। স্বজনরা অপারেশন অসম্পূর্ণ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ডা. হাবিবুর রহমানের সহকারী সার্জারির চিকিৎসক জানান, রোগীকে যে পরিমাণ অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়েছে তা কাজ না করায় মাঝ পথেই তার জ্ঞান ফিরে আসে। যার জন্য তার অপারেশন সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি।

এই নিয়ে রোগীর আত্মীয়-স্বজনের কাছে জানতে চাইলে রোগীর চাচী ও ভগ্নিপতি বলেন, রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আধা ঘন্টার মধ্যেই ওর চিৎকার শুনতে পাই। আমরা যখন জানালা দিয়ে ভিতরে তাকাই, তখন দেখতে পাই ৮/৯ জন ডাক্তার ওকে চেপে ধরে আছে। ওর চিৎকারে আশেপাশে থাকা অন্যান্য রোগীরাও ভিড় জমায় অপারেশন থিয়েটারে সামনে। ডা. হাবিবুর রহমানই আমাদের রোগীকে হত্যা করেছে। সে কেমন ডাক্তার যে রোগী অপারেশনের মাঝপথেই উঠে যাবে। তার ভুলের কারণেই আমাদের ছেলে মারা গেছে। আমরা তার শাস্তির দাবি করছি।

দীর্ঘদিন যাবৎ লিভারজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন সাংবাদিক আসাদ। বিভিন্ন ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ হচ্ছিলেন না তিনি। অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসার তিনি মুগদা হাসপাতালে ভর্তি হন। মুগদা হাসপাতালে দীর্ঘ ১৫ দিন যাবৎ চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার স্বাস্থ্যের উন্নতি না হলে তিনি শাহজাহানপুরের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের কনসাল্টটেন্ট ও মিটফোর্ড হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোলোজী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমানের কাছে চিকিৎসা নেন।

ডা. হাবিবুর রহমান তাকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার পিত্তস্থলী চিকন হয়ে গেছে এবং ক্যান্সারের আশংকা রয়েছে বলে জানান। এর সমাধান হিসাবে তিনি আসাদকে ইআরসিপি নামক সার্জারি করার পরামর্শ দেন এবং মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন। তরুণ সাংবাদিক আসাদ তার পরামর্শে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হন।সেখানে প্রথমে ইআরসিপি সার্জারির যন্ত্র নষ্ট বলে জানান চিকিৎসকরা। পরে সার্জারির যন্ত্র ঠিক হলে গত মাসের ২৪ তারিখ আসাদকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান চিকিৎসকরা। কিন্তু ২ ঘণ্টা সার্জারির ৩০ মিনিট পার হওয়ার পর সার্জারিরত অবস্থায় রোগীর জ্ঞান ফিরে আসে। সার্জারির যন্ত্রণায় রোগী চিৎকার শুরু করলে অপারেশন থিয়েটারে অবস্থিত ৭/৮ জন নার্স তাকে চেপে ধরে সার্জারির সকল উপাদান তার শরীর থেকে বের করেন। এরপর ডাক্তার আমাদের কাছে তাদের অপারগতা স্বীকার করে বেসরকারী হাসপাতাল বিআরবিতে স্থানান্তরের জন্য বলেন। বিআরবি হাসপাতাল আমরা না চেনার কারণে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাই।

২৯.০১.১৮ তারিখে রোগীকে তার স্বজনরা ইবনেসিনা হসপিটালের লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. শাহীনুল আলম দেখান। তখন চিকিৎসক রোগীকে আল্ট্রাসানোগ্রাম ও অন্যান্য পরীক্ষা দেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করলে দিন দিন রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। তার পেট সম্পূর্ণ ফুলে যায়। তখন চিকিৎসক তাকে ত্রিপল বাইপাস মেজর অপারেশন করার পরামর্শ দেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি অপারেশনের কথা থাকলেও রোগীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা রোগীকে আইসিইউতে স্থানান্তর করে। পরে ৪ ফেব্রুয়ারী রোগীর অপারেশন করা হয়। অপারেশন করতে গিয়ে ডাক্তার দেখতে পায় রোগীর ভুল ইআরসিপির কারণে পিত্তস্থলীর, খাদ্যনালী ও অগ্নাশয় পচে যায়। যার কারণে সেগুলোকে কেটে ফেলতে হয়। সার্জারি চিকিৎসক বিকল্প ব্যবস্থা করে দিলেও অপারেশন পরবর্তী ২৩ ঘণ্টা পরে আসাদের মৃর্ত্যু হয়।

উল্লেখ্য যে, মৃত আসাদুজ্জামান ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য এবং সর্বশেষ দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক ছিলেন। এর আগে ভোরের কাগজ, শীর্ষ নিউজ ডটকমের এবং দিনের আলোর মতো প্রখ্যাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech