কাপাসিয়ায় সরকারী বইসহ পিকআপ আটক

  

পিএনএস, কাপাসিয়া প্রতিনিধি : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বেগুনহাটি ফাজিল মাদরাসা ও দিগধা দারুল উলুম মাদরাসায় সরকারী ভাবে দেয়া বিনামূল্যের বই নিয়ম বর্হিভূতভাবে গোপনে বিক্রয়ের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাকছুদুল ইসলামের নিদের্শে মাদরাসায় গিয়ে বই ক্রেতাদের হাতে-নাতে পিকআপ সহ আটক করেছে থানা পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার রাতে। ঘটনার সাথে জড়িত বই ক্রেতা, ড্রাইভার, হেলপার ও পিকআপ ভর্তি ৭শত ২০ কেজি বই সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। দুই মাদরাসার অধ্যক্ষ, বই ক্রেতাসহ ৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের এবং গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেফতারকৃতদের গাজীপুর আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

মামলার বিবরনে জানাযায়, উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের বেগুনহাটি ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান সরকারের দেয়া বিনামূল্যের বই গোপনে বিক্রয় করছেন, এই সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশ গিয়ে মাদরাসার অফিসের সামনে থেকে পিক-আপ ভর্তি বই আটক করে। সরকারী বই শিক্ষা অফিসে জমা না দিয়ে বিনাঅনুমতিতে বিক্রয়ের অপরাধে সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বাদী হয়ে বেগুনহাটি মাদরাসার অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান (৫০), দিগধা মাদরাসার অধ্যক্ষ মোঃ সফিকুর রহমান (৫৫), বই ক্রেতা দাদন (৩২), আটককৃত তারিকুল ইসলাম (২২), ড্রাইভার সাইফুল ইসলাম (২৪), হেলপার আসিফ ইকবালের (২৬) বিরুদ্ধে মজুদদারী ও কালোবাজারীর দায়ে মামলা দায়ের করেছেন।

বই ক্রেতা তরিকুল ইসলাম জানান, সে পুরনো বই ক্রয় করার জন্য মাসরাসার অধ্যক্ষদের সাথে আগেই যোগাযোগ করে এসেছেন। বই নেয়ার জন্য ঢাকা থেকে একটি পিকআপ ৪ হাজার টাকায় ভাড়া করে নিয়ে এসেছে। বেগুনহাটি মাদরাসা থেকে ২ হাজার ৬ শত টাকায় বইগুলো কিনেছেন। এছাড়া দিগধা দারুল উলুম মাদরাসা থেকেও ২ হাজার ৫ শত টাকায় কিছু বিনামূল্যের বই ক্রয় করেছে বলে সে জানায়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রকিব হাসান বলেন, সরকারী বই মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জমা বা অনুমতি নিয়ে বিক্রি করার কথা। কিন্ত মাদরাসা অধ্যক্ষরা আগে কোন কিছুই জানাননি। এব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এব্যাপারে বেগুনহাটি ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ নুরুজ্জামানকে মোবাইল ফোনে সরকারী বই শিক্ষা অফিসে জমা না দিয়ে কেন বিক্রয় করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বই গুলো বিগত বছরের পুরাতন। এগুলো বিক্রয়ের বিষয়ে একটি রেজুলেশন করা হয়েছিল।

এছাড়া বেগুনহাটি ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। র্দীঘ দিন যাবত কয়েকজন শিক্ষক অধ্যক্ষের সাথে যোগসাজসে নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে না এসে অনুপস্থিত থেকে অন্যদের দিয়ে ক্লাস করান এবং হাজিরা প্রদান করেন। অনুপস্থিত শিক্ষকের বেতন-ভাতা নিয়মিত উত্তোলণ করে ভাগ-ভাটোয়ারা করে থাকেন বলে ব্যাপক প্রচার আছে। সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠানে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একজন পিয়ন পদ পুরন করা হয়েছে বলেও জানা যায়।

পিএনএস/মো: শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech