এক খবরে পেঁয়াজ ৭০ টাকা

  

পিএনএস ডেস্ক : নিজেদের বাজার সামাল দিতে পেঁয়াজ রপ্তানির ন্যূনতম মূল্য টনপ্রতি ৮৫০ ডলার বেঁধে দিল ভারত। আর এ খবরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ টাকা।

ঢাকার বড় বড় বাজারে এখন ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ ৭০ টাকা, দেশি কিং নামের একধরনের পেঁয়াজ ৬৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবারও দেশি পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল।

দামটা বেড়েছে মূলত পাইকারি বাজারে। আর পাইকারি বাজারসংলগ্ন খুচরা বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে যেসব খুচরা ব্যবসায়ী গতকাল শনিবার পাইকারি বাজার থেকে পেঁয়াজ কিনেছেন, তাঁরাও বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।


জানতে চাইলে পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী মো. আবদুল মাজেদ বলেন, এ বছর দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কম। এর মধ্যে ভারত ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করে দিল। এতে দেশের বাজারে ইতিমধ্যে প্রভাব পড়েছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার শ্যামবাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৪৩-৪৫ টাকা ছিল, যা গতকাল ৬০ টাকায় ওঠে। একইভাবে ৪২-৪৩ টাকা কেজির ভারতীয় পেঁয়াজ উঠেছে ৫৭-৫৮ টাকায়।

দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ও জোগানের কোনো সঠিক হিসাব নেই। ব্যবসায়ীদের ধারণা, প্রতিবছর চাহিদার ৬০-৭০ শতাংশ পেঁয়াজ দেশে উৎপাদিত হয়। বাকিটা আমদানি হয়। আমদানির প্রায় পুরোটাই আসে ভারত থেকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) হিসাবে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে আমদানি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ ৯২ হাজার টন।

ভারতের দ্য হিন্দুর এক খবরে বলা হয়, দেশটির রাজধানী দিল্লিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৪০-৫০ রুপিতে উঠেছে। এ কারণে ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। দেশটির ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) গত শুক্রবার এ-সংক্রান্ত নির্দেশনাটি জারি করে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই রপ্তানি মূল্য বহাল থাকবে।

রপ্তানি মূল্যের মানে হলো, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এখন থেকে টনপ্রতি ৮৫০ ডলারের কমে আর পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারবেন না। এই দরে আমদানি করলে বাংলাদেশে এফওবি (ফ্রেইট অন বোর্ড বা ভাড়া ছাড়া মূল্য) দাঁড়ায় কেজিপ্রতি প্রায় ৭২ টাকা। এর সঙ্গে কেজিতে ৫-৬ টাকা ভাড়া যুক্ত হবে।

ঢাকার কারওয়ান বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, শুক্রবার দুপুরেই তিনি প্রতি পাঁচ কেজি দেশি পেঁয়াজ ২৪০ টাকায় (৪৮ টাকা কেজি) বিক্রি করেছেন। গতকাল দুপুরে তা ৩৩০ টাকায় (কেজিপ্রতি ৬৬ টাকা) ওঠে। তিনি বলেন, এ বছর মৌসুমের শেষ সময়ে বৃষ্টিতে পেঁয়াজ পচে গেছে। এ কারণে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কম।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের তালিকায় পেঁয়াজ অতি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।একটি মাঝারি পরিবারে মাসে গড়পড়তা পাঁচ কেজি পেঁয়াজ লাগে।


কারওয়ান বাজারের পাইকারি দোকান থেকে গতকাল পেঁয়াজ কিনছিলেন জিয়াউর রহমান। জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাঁচ কেজি পেঁয়াজ কেনার ইচ্ছা ছিল তাঁর, কিন্তু দাম আরও বাড়ার আশঙ্কায় ১০ কেজি কিনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ঈদুল আজহার আগে আগস্টের শুরুতে তিনি ১০ কেজি পেঁয়াজ কিনেছিলেন ৩৫০ টাকায়। এখন দাম পড়েছে দ্বিগুণের মতো।

ভারত নিজের বাজার অস্থির হলেই পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ঠিক করে দেয়। ২০১৫ ও ২০১৭ সালেও তারা রপ্তানি মূল্য বেঁধে দিয়েছিল। অবশ্য বাংলাদেশে মৌসুমের সময় প্রচুর ভারতীয় পেঁয়াজ আসে। এতে কৃষকেরা দাম পান না বলে অভিযোগ। এ জন্য মৌসুমের সময় ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানিতে কিছু শুল্ক আরোপের দাবি উঠেছিল। যদিও তা সাড়া পায়নি।

দেশে নতুন মৌসুম শুরু হবে আগামী ডিসেম্বরে। তখন আগাম পেঁয়াজ বাজারে আসবে। এর আগ পর্যন্ত আমদানির ওপরই নির্ভর করতে হবে।

এখন ভারতীয় পেঁয়াজ ছাড়া ভিন্ন উৎস আছে কি না—জানতে চাইলে আমদানিকারক আবদুল মাজেদ বলেন, সমস্যা হলো পাকিস্তানি পেঁয়াজ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। চীনা পেঁয়াজ বাংলাদেশের মানুষ পছন্দ করে না। মিসরের পেঁয়াজ অনেক বড় বড়, চারটিতে এক কেজি হয়ে যায়। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে কিছু পেঁয়াজ আসতে পারে। আমদানি হলে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

দেশে ২০১৭ সালে এক কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ১৪০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এযাবৎকালে সেটাই ছিল সর্বোচ্চ মূল্য। তখনো ভারত ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ায় প্রভাব পড়েছিল বাজারে।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech