‘বাংলা বন্ড চালু বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের একটি বড় পদক্ষেপ’

  

পিএনএস ডেস্ক : বাংলা বন্ড চালু বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের একটি বড় পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আজ সোমবার লন্ডন স্টক মার্কেটে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা টাকা বন্ডকে লিস্টিং করার অনুষ্ঠান উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন।

রিং দ্যা বেল নামের এই অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। বাংলা বন্ড চালু বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের একটি বড় পদক্ষেপ। এই বন্ড চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবাসী বিনিয়োগ আরও সহজতর হবে।’

বাংলা বন্ড চালুর পেছনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান, এমনকি বাংলা বন্ড নামকরণটিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বলেও জানান মন্ত্রী। আইএফসি ও লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জকে ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের এমন একটি ঐতিহাসিক দিনকে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে উৎসর্গ করেন।

লন্ডন সময় সকাল সাড়ে ৯টায় লন্ডন ষ্টক এক্সচেঞ্জ সেমিনার রুমে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়ার জন্য লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে চালু হয়েছে “বাংলা টাকা বন্ড”। এটি হবে একটি টাকা বন্ড। এই বন্ডের আকার হবে ১০০ কোটি ডলার। কিন্তু প্রাথমিকভাবে বাজার থেকে তোলা হবে এক কোটি মার্কিন ডলার বা ৮৪ কোটি টাকা। প্রবাসীরা ডলারে এই বন্ড কিনলেও প্রথমবারের মতো তা টাকায় রূপান্তর করে দেশের বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে। বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) হবে এই বন্ডের ইস্যু ম্যানেজার।’

এ সময় বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটির মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘ মেয়াদী অর্থায়নের সম্ভাবনার পথ চলার একটি ধাপ শুরু হলো। যা আমাদেরকে ২০৪১ এর স্বপ্ন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে সহায়তা করবে। এই প্রথম বাংলাদেশের টাকা কোনো আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটের সঙ্গে সংযুক্ত হতে যাচ্ছে। টাকা লন্ডন স্টক মার্কেটে লেনদেন হবে। যে কেউ এই বন্ড কিনতে পারবে। ডলার দিয়ে এই বন্ড কিনতে হবে। সেই ডলার টাকায় কনভার্ট হয়ে তা বিনিয়োগ করা হবে।

আইএফসি বাংলাদেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করেছে। এই এক বিলিয়ন ডলার “টাকা বন্ড” ছাড়ার মাধ্যমে তাদের বিনিয়োগ আরও বাড়বে।’

এই বন্ডের মেয়াদ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছর এবং সর্ব্বোচ্চ ১০ বছর করা হতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রে দেখা গেছে রুপি বন্ড প্রথম তিন বছর মেয়াদি ছাড়া হয়েছিল। পরে তার সময়সীমা বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়। এখন তা ১০ বছর পর্যন্ত হয়েছে। প্রবাসী ভারতীয়রা এই বন্ডে বিপুল হারে বিনিয়োগও করেছে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আইএফসির এশিয়া এবং প্যাসিফিক অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট নেনা ষ্টেলকোভিক, ব্রিটেনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনীম, বিডার চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ এবং আইএফসি ডিরেক্টররা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে এ ধরনের বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ’র বার্ষিক সভায় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে আইএফসির নেতাদের এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে এই বন্ড ছাড়ার প্রস্তাব দিলে তখনই প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। এরপর আইএফসি বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠায় এবং তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অর্থমন্ত্রণালয় একই বছর (২০১৫) ৪ অক্টোবর এক চিঠিতে ‘টাকা বন্ড’ ছাড়ার অনুমোদনের বিষয়টি জানায়। প্রবাসীদের জন্য ‘ডলার বন্ড’ থাকলেও বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো ‘টাকা বন্ড’ ছাড়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই বন্ডের মাধ্যমে যে অর্থ উত্তোলন করা হবে তা আইএফসির অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে।

পিএনএস/মো. শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech