এক পর্বেই হবে ‘বিশ্ব ইজতেমা’

  

পিএনএস ডেস্ক : বিভেদ ও সহিংসতা ঠেকাতে এক পর্বেই বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে সরকার। তবলিগ জামাতের দুই মুরব্বি জুবায়ের ও সাদপন্থিদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারির পূর্বনির্ধারিত তারিখ বহাল রাখা হচ্ছে।

নির্ধারিত দিনক্ষণে তবলিগ জামাতের বিবদমান দুই পক্ষ সম্মত হলেও আখেরি মোনাজাত পরিচালনা, ৫৪টি নজমের (সেবা সার্ভিস) জিম্মাদার, খিত্তার আমির নিয়ে মতানৈক্য এখনো কাটেনি।
ইজতেমা অনুষ্ঠানে করণীয় বিষয়ে বিবদমান দুপক্ষের দুজন করে প্রতিনিধি নিয়ে এ সপ্তাহে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ সভা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় মাওলানা সাদ ও জুবায়েরপন্থি মুরব্বি নির্ধারণসহ সব বিষয়ে একমত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ওই সভায় মতৈক্য না হলে পূর্বঘোষিত ইজতেমার তারিখ ঠিক রেখেই অমীমাংসিত বা ইজতেমা পরিচালনা বিষয়ে সরকার গঠিত কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

দুপক্ষের দ্বন্দ্ব মেটানো ও মোনাজাতের মুরব্বি নির্ধারণে গতকাল রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সভাপতিত্বে এতে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবসহ স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনুষ্ঠিত সভায় নিজ নিজ মুরব্বিদের নেতৃত্বে ইজতেমা পরিচালনায় অনড় ছিল দুই পক্ষ। এমনকি ২৩ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় দিল্লি মারকাজের মাওলানা মোহাম্মদ কান্ধলভি সাদকে এবারের ইজতেমায় না রাখতে ঢাকায় তার অনুসারী মাওলানা ওয়াসেক ইসলামপন্থিরা রাজি হলেও গতকাল তারা সাদকে আনার দাবি তোলেন। এ ছাড়া মাওলানা জুবায়েরের একক স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দাওয়াতি কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাদের অনুসারীরা। এতে জুবায়েরপন্থিরা আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, কেবল নিজেদের মেহমানদেরই দাওয়াত করেছেন।

ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ইজতেমা কোন পক্ষ পরিচালনা করবে সে বিষয়ে গতকালের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেন, পূর্বঘোষিত ১৫ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ইজতেমা হবে। তবলিগ জামাতের মধ্যে যে বিভেদ ছিল তা ইতোমধ্যেই মিটে গেছে। ইজতেমার প্রস্তুতি চলছে। দুই গ্রুপের কারা ইজতেমা পরিচালনা করবে, তা তবলিগের মরুব্বিরা বসে ঠিক করবেন।

মীমাংসার পর প্রস্তুতিমূলক সভা করতে এত সময় কেন লাগল-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, মাঠে কে ইমামতি করবেন, কে নেতৃত্ব দেবেন, সেসব খুঁটিনাটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দুপক্ষ মিলে যেন সুন্দরভাবে ইজতেমা শেষ করা যায়, সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সারা পৃথিবীতেই তবলিগ জামাত বিভক্ত রয়েছে। তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, আমরা যে যা-ই বলি, কথা এক; সেটা হলো তবলিগ জামাতের দুটি পক্ষ আছে। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর একসঙ্গে ইজতেমা হবে, এ সিদ্ধান্ত তারাই নিয়েছেন। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা-গোলযোগ ছাড়া যেন ইজতেমা শেষ হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা। আজকের বৈঠকে এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার পরও ইজতেমা পরিচালনায় খুঁটিনাটি কিছু বিষয় থেকে যায়। যেমন- কে ইজতেমার নেতৃত্ব দেবেন, কে ইমামতি করবেন, কে মোনাজাত করাবেন- এসব বিষয়ে দুপক্ষ বসে আলোচনা করবেন। আমরা দুপক্ষকে দায়িত্ব দিয়েছি, তারা বসে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল




 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech