বাদল ফরাজি কারাগারে কেন, জানতে রিট

  


পিএনএস ডেস্ক: বাদল ফরাজিকে কেন কারাগারে রাখা হয়েছে তা জানতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিটের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রায় ১১ বছর আগে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর বাদল ফরাজিকে বাদল সিং ভেবে একটি খুনের মামলায় অভিযুক্ত করে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়।

বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় গত বছরের জুলাইয়ে ভারত তাকে দেশে ফেরত পাঠালেও তিনি মুক্তি পাননি।

কারাসূত্র সেসময় জানিয়েছিল, বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যেহেতু তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তাই তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে। কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কারাগারে থাকা বাদল ফরাজি জানান, তিনি নির্দোষ বলেই বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় দিল্লির তিহার জেল থেকে তাকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়েছে।

কিন্তু দেশে ফেরার পর সাত মাস পেরিয়ে গেলেও মুক্তির কোনো লক্ষণ দেখছেন না তিনি। দাগি আসামিদের সঙ্গেই দিন পার করতে হচ্ছে তাকে।

২০০৮ সালের ৬ মে নয়াদিল্লির অমর কলোনির এক বৃদ্ধা খুনের মামলায় বাদল সিং নামে এক আসামিকে খুঁজছিল ভারতের পুলিশ।

১৩ জুলাই বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফ ভুল করে বাদল ফরাজিকে গ্রেফতার করে। ইংরেজি বা হিন্দি জানা না থাকায় তিনি বিএসএফ সদস্যদের কাছে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি।

ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র জানায়, নিম্নআদালতের রায়ে খুনের দায়ে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট বাদলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে হাইকোর্টেও একই সাজা বহাল থাকে।

বিষয়টি জানার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এর পর আইন মন্ত্রণালয়, পুলিশের বিশেষ শাখা এবং কারা অধিদফতর থেকে মতামত চাওয়া হয়।

এদিকে বাদলের নির্দোষ হওয়ার বিষয়টি জানার পর ১৯ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক জরুরি বৈঠক করে তাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে ৬ জুলাই তাকে বাংলাদেশে আনা হয়।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech