পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হচ্ছে শিশুরাও

  

পিএনএস ডেস্ক: রাজধানীর নাম করা একটি ইংলিশ মিডিয়ামের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী সামিনা অলিরা (ছদ্মনাম)। প্রতিনিয়ত সে তার মায়ের মোবাইলে ইন্টারনেটে গেমস খেলে। খেলতে খেলতে একদিন গেমসের সঙ্গে অনেক পর্ন সাইটের লিংক দেখতে পায় সে এবং ক্লিক করে, সে অনেকটা গোপনীয়তার সঙ্গে সেইসব পর্ন সাইটে প্রবেশ করে।

সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো ধীরে ধীরে সে গেমসের চেয়ে পর্ন সাইটে সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করা শুরু করে। এমনকি এসব লিংকের কথা স্কুলের বন্ধুদের জানায়। তারাও সামিনা অলিরার মতো প্রতিনিয়ত পর্ন সাইটে আসক্ত হয়ে পড়ে।

দেশের প্রায় সব স্কুলের শিক্ষার্থীরা কোনো না কোনো ভাবে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হচ্ছে। অল্প বয়সের এ সব ছেলে মেয়েরা আবার অনেক সময় নিজের ইচ্ছেতেই ভিডিও করছে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত। এতে বিপাকেও পড়ছে এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। যাদের বেশিরভাগের বয়স ১০ বছর থেকে ১৬ বছর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সহজলভ্য ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে এমনটা হচ্ছে। এখন হাতের নাগালে পাচ্ছে স্মার্টফোন। নিজের কাছে ফোন না থাকলেও বাসায় কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপে ইন্টারনেট লাইনতো আছেই। আর সেই সুযোগ নিচ্ছে বেশিরভাগ ছেলে মেয়েরা। এতে আতঙ্কেও থাকে প্রতিটি বাবা মা।

একটু বয়স হলেই অনেকে আবার কম্পিউটারের দোকান থেকে পেনড্রাইভ অথবা হার্ডডিস্কে পর্ন ভিডিও নিয়ে এসে নিজের কম্পিটার কিংবা ল্যাপটপে দরজা বন্ধ করে একা একা দেখছে।

ক্যাসপারস্কি ল্যাবের এক গবেষণার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড মিররে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ বছর বয়সী শিশুরা তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে সক্রিয়ভাবে তাদের অনলাইন কার্যক্রম লুকানোর চেষ্টা করছে। এতে দেখা গেছে, ১০ বছর বয়সী ৫১ ভাগ শিশুর নিজের ট্যাব এবং ৩৩ ভাগ শিশুর স্মার্টফোন রয়েছে। এর মধ্যে ৪২ শতাংশ শিশু মনে করে তারা অনলাইনে কি করছে, সেটা তাদের বাবা-মায়ের কাছে লুকানোর মতো সক্ষমতা তাদের আছে। ১০০০ শিশুর উপর এই গবেষণা চালানো হয়।

প্রতিকারের উপায়


সহজভাবে শুরু করুন
খুব সহজভাবে কথা শুরু করুন। ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে বা বিব্রত ভাব নিয়ে কথা শুরু করলে আপনার সন্তানের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে। তার চেয়ে বরং সরাসরি বলুন, ‘আমি জানি তুমি কি দেখছিলে! আমি এটা নিয়ে বিরক্ত নই। কিন্তু এ বিষয়ে কিছু কথা তোমার জানা দরকার।’ মানসিকভাকে তৈরি হন যেন, বাকি কথাগুলোও সরাসরিই বলতে পারেন।

নিজের গণ্ডি চিনে নিতে হবে
আপনি ছেলে সন্তানের পিতামাতা হন বা মেয়ে সন্তানের তার সঙ্গে নিয়মিত সহজভাবে এইসব খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন। পর্ন আসক্তি একটি ভয়াবহ ব্যাপার। এটি মানুষের পশুত্বকে জাগিয়ে তুলতে পারে। তাই আগেভাগে নিজের সংকোচ কাটিয়ে কথা বলুন। এখনই তাকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনুন।

পর্ন সেক্স সত্যি নয়
বাস্তবে দুজন মানুষ কখনোই এভাবে একে অপরের কাছে আসে না যেভাবে নীল ছবিতে দেখানো হয়। মানুষের জীবন অনেক জটিল, সম্পর্কের নানান উত্থান পতন থাকে। যৌনতা তার একটি অংশ মাত্র। স্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক ব্যক্তিবিশেষে আলাদা হয়। কোন জুটিই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইন্টারকোর্স করতে পারে না। আর এর ভাষা, আবেগের প্রকাশ, ভাবভঙ্গী সবই ক্যামেরার সামনে সাজানো নাটক মাত্র।

সবাই একরকম নয়
পর্ন সিনেমা সবখানেই আছে। সব ছেলেরাই হয়ত পর্ন দেখে। কিন্তু বাস্তবে তারা এমনভাবে আচরণ করে না। একটি ছেলে একটি স্বাভাবিক মানুষ। পর্নে দেখানো ছেলেটি অভিনয় করে। বাস্তব জীবনে অভিনয়ের স্থান নেই। এখানে মেয়েটিকে নিজের অবস্থান দাঁড় করাতে হবে নিজের মূল্যবোধ, আত্মবিশ্বাস এবং ব্যক্তিত্বের দ্বারা।

বাস্তবে যৌনতার সঙ্গে মিশে থাকে আবেগ
বেশিরভাগ পর্ন ছবিতে কোন আবেগ দেখানো হয় না। সেখানে মানুষ যন্ত্রের মতো একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়। কিন্তু বাস্তবে যৌনতার জন্য প্রয়োজন হয় ভালোবাসার। মানবজাতি তাই অন্যসব প্রাণীকূলের চেয়ে আলাদা। যৌনতার সঙ্গে শুধু ভালোবাসা নয়, জড়িয়ে আছে দায়িত্বও। সামাজিক দায়বোধ মানুষের জীবনের সীমারেখা তৈরি করে। সভ্যতার জন্যই এর প্রয়োজন। কিন্তু পর্ন ছবিতে এসব কিছুই দেখানো হয় না। এটা যৌনতার শিক্ষামূলক গাইডও নয়। কারণ এখানে যা দেখানো হয় তার সবই অতিরঞ্জিত।

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech