কে এই মাওলানা সাদ, তাকে নিয়ে কেন বিতর্ক?

  

পিএনএস ডেস্ক: বিশ্ব ইজতেমায় ভারতের নেজামুদ্দিনের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভির অংশগ্রহণ নিয়ে তাবলিগ জামাতের দুটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, তিনি বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দেবেন না এবং সুবিধামতো সময়ে নিজ দেশে ফিরে যাবেন। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে তাবলিগ জামাতের বিবাদমান দুটি পক্ষের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, মাওলানা সাদ সুবিধামতো সময় বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাবেন। তিনি ইজতেমায় অংশ নেবেন না। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে থাকবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি কাকরাইলে থাকবেন। তবে তার পরিবর্তে বিশ্ব ইজতেমায় আখেরি মোনাজাত কে পরিচালনা করবেন তা ঠিক করবেন তাবলিগ নেতারা।

আগামী শুক্রবার ১২ জানুয়ারি থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার প্রথমপর্ব শুরু হবে। ১৪ জানুয়ারি হবে আখেরি মুনাজাত। এরপর ১৯ তারিখ থেকে ইজতেমার দ্বিতীয়পর্ব শুরু হয়ে ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মুনাজাত। ইজতেমায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তাবলিগের সাথীরা অংশ নিয়ে থাকেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলার কয়েক লাখ মুসল্লি ইজতেমায় শরিক হন। ইজতেমায় তাবলিগের প্রতিষ্ঠা স্থান ভারতের নেজামুদ্দিনের মুরব্বি ফয়সাল (আমির) প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা করে থাকেন।

২০১৫ সালে ভারতে তাবলিগের মুরব্বিদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। তাবলিগের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলিয়াসের বংশধর এবং ভারতের নেজামুদ্দিনের শূরা সদস্য মাওলানা সাদ কান্ধলভি নিজেকে তাবলিগের আমির হিসেবে ঘোষণা দিলে সেখানকার শূরা সদস্য মাওলানা ইবরাহীম দেওলা, মাওলানা আহমাদ লাটসহ কয়েকজন বিরোধিতা করেন। পরে তারা ওই মারকাজ থেকে বেরিয়ে যান।

তাবলিগের কেন্দ্রে এ বিভক্তি অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে তাবলিগ জামায়াতের কেন্দ্র রাজধানীর কাকরাইল মারকাজ মসজিদের শূরা সদস্যদের মধ্যেও মতপার্থক্য দেখা দেয়। কাকরাইল মসজিদে বর্তমানে মাওলানা সাদের সমর্থক হিসেবে প্রকৌশলী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামসহ কয়েকজন শূরা সদস্য রয়েছেন। একইভাবে মাওলানা যোবায়ের আহমেদসহ বেশ কয়েকজন শূরা সদস্য মাওলানা সাদের বিরোধিতা করছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, মাওলানা সাদ কান্ধলভি ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য প্রচার করছেন। যাতে তাবলিগের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।

মাওলানা সাদ কান্ধলভী ভারতীয় আলেম। তাবলিগ জামাতের বিশ্ব-মারকায বা কেন্দ্র হলো দিল্লির ‘নিজামুদ্দিন মারকায। এই কেন্দ্রে দায়িত্বে যিনি থাকেন তাকেই বিশ্ব-তাবলিগের আমির বলা হয়। সে হিসেবে বর্তমানে তাবলিগের আমিরের দায়িত্ব পালন মাওলানা সাদ। তাকে নিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে উপমহাদেশে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ মাওলানা সাদের বেশ কিছু বক্তব্যকে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রহণযোগ্য বলে রায় দিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে জারি করা এক ফতোয়ায় মাওলানা সাদের কড়া সমালোচনা করেছে দেওবন্দের ফতোয়া বোর্ড।

দেওবন্দের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পোস্ট করা ফতোয়ায় বলা হয়, ‍’মুসলিমদেরকে, বিশেষ করে যারা তাবলিগ জামায়াতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর সংসর্গে আছেন তাদেরকে সাবধান করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে মাওলানা কান্ধলভী কুরআন ও হাদিসের কিছু বিষয়ে এমন সব ব্যাখ্যা দিচ্ছেন যা সত্য থেকে বিচ্যুত এবং আলেম উলামাদের সর্বসম্মত মতামতের বিরোধী।’

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে বিতর্কিত বক্তব্যের একাধিক অভিযোগ পেয়ে তা যাচাই বাছাইয়ের পর দেওবন্দ এই সিদ্ধান্তে আসে বলে জানানো হয়। ফতোয়ায় আরও বলা হয়, ‘যদি দ্রুত সাদ কান্ধলভীর ব্যাপারে সতর্ক না হোন, তাহলে মুসলমানদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিভ্রান্তিতে পতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

দেওবন্দের এই অবস্থানকে তাবলিগের একাংশ সঠিক মনে করছেন। এবং তারা চান না সংগঠনটির নেতৃত্বে তিনি থাকুন। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য আগামী শুক্রবারের ইজতেমায় তার অংশগ্রহণের ঘোর বিরোধী এই অংশে মূলত আলেম সমাজ রয়েছেন।

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech