রায়কে কোনো গুরুত্ব না দিয়ে জাতীয় ঐক্যের আন্দোলন চলবে: মওদুদ

  

পিএনএস ডেস্ক : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে কোনও গুরুত্ব না দিয়ে জাতীয় ঐক্যের আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

তিনি বলেছেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের কারণে তারা (সরকার) মনে করছে আমাদের যে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া করতে যাচ্ছি, এটাকে ব্যহত হবে। আমি বলবো, এই রায়কে সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য করে, উপেক্ষা করে, এই রায়কে কোনও গুরুত্ব না দিয়ে আমাদের জাতীয় ঐক্যের আন্দোলন চলবে। খুব শিগগিরই আমরা এটার একটা রূপরেখা দিবো এবং এই আন্দোলনের একটা কাঠামো ঘোষণা করবো। এরপর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে এই সরকারের পতনের ব্যবস্থা করবো। এই সরকার বাধ্য হবে সংলাপে আসতে।’

শুক্রবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট সাজানো মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় বাতিল ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনকে খুশি করছে এমন দাবি করে মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষদের খুশি করার জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। এমনকি যারা অবসরপ্রাপ্ত, পেনশনের টাকা নিয়ে নিয়েছে তাদেরকেও আবার নতুন করে পেনশন দিচ্ছে। এতে যদি কিছু ভোট তারা পায়! এই ভোট পাওয়ার জন্য কওমি মাদ্রাসাদের স্বীকৃতি দিয়ে দিল। এই ভোট পাওয়ার জন্য প্রত্যেক দিন তারা প্রকল্প উদ্বোধন করছে। এগুলা সব হলো নির্বাচনী প্রকল্প, দেশের মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য করছে। এদের ৮০ ভাগই যদি ভোট দিতে যায়, তারা যে তাদের (আ.লীগ) ভোট দিবে না এটা তারা জানে না।’

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পর আওয়ামী লীগ তৎকালীন সরকারকে কোনও সহযোগিতা করেনি এমন অভিযোগ করে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘২১ আগস্টের ঘটনায় আমরা খুব মর্মাহত হয়েছি। এ ধরনের ঘটনা আর যেন বাংলাদেশের মাটিতে না ঘটে সেটাই আমরা কামনা করি। এ ধরনের ঘটনাকে ঘৃণা করি আমরা। এই মামলায় যিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না তাকে আজকে জড়িয়ে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চায় সরকার। প্রথম চার্জশিটে তার (তারেক রহমানের) নাম ছিল না, মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তি বক্তব্য দিয়েছিল সেখানে তার নাম ছিল না। এফবিআইয়ের রিপোর্টে ছিল না, ইন্টারপোলের রিপোর্টে ছিল না। তারপরে এই সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরে আবার নতুন করে একটা বিতর্কিত ব্যক্তিকে দিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করে। অকথ্য অত্যাচার করে এই মুফতি হান্নানের কাছ থেকে জোর করে তারেক রহমানের নাম উচ্চারণ করিয়েছিল। মুফতি হান্নান আদালতে বলেছে তার কাছ থেকে জোর করে তারেক রহমানের নাম উচ্চারণ করানো হয়েছে। সে তারেক রহমানকে চেনেও না। কোনদিন সাক্ষাৎ পায়নি তার।’

নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার একটাই পথ আছে এখন, সেটা হলো রাজপথ। রাজপথ ছাড়া খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না। এখন আপনারা প্রস্তুতি নেন, সময় এসে গেছে । মাঠে নেমে এই দাবি আদায় করতে হবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জিয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কবির মুরাদের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা প্রফেসর আব্দুল কুদ্দুস, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস এম হাসান তালুকদার, জিনাফের সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech