যেকোন সময় খালেদা জিয়ার মুক্তি, স্বাগত জানালো অ্যামনেস্টি

  

পিএনএস ডেস্ক: নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীতে পুরো বিশ্বজুড়ে চলেছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা; নানা বিধিনিষেধে বাংলাদেশও রয়েছে প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায়।তাই বয়স বিবেচনায় ও মানবিক কারণে দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে তাকে শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।দুই বছরের বেশি সময় কারান্তরীন খালেদা জিয়া এখন মুক্তির অপেক্ষায়।

জানা গেছে, দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসা ফিরোজায় ফিরবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি দণ্ড পেয়ে কারাগারে যান তিনি। শুরুতে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা হয়েছিল তাকে। পরে অসুস্থ হয়ে নেয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিরাজমান পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ) তাকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত জানায় সরকার। বয়স ও মানবিক বিবেচনায় তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তার মুক্তি সংক্রান্ত নথি বিকালে আইন মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নথি পাঠানো হচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। এরপর এ নথি যাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। তিনি অনুমোদন দিলেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুক্তি সংক্রান্ত নির্দেশনা কারাগারে পাঠাবে। পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করা হচ্ছিল দীর্ঘ দিন থেকে। তবে সরকারের তরফে বলা হচ্ছিল এটি আদালতের বিষয়। আইনী প্রক্রিয়াই তিনি মুক্ত হবেন।

দুপুরের সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল হক বলেন, তার (খালেদা জিয়া) সাজা ৬ মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাকে ঢাকাস্থ নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করার শর্তে এবং ওই সময়ে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না- এই শর্তে তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমি মতামত দিয়েছি। সেই মতামত এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে গেছে। তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে কিনা এ বিষয়ে তিনি বলেন, আগে ৬ মাস যাক, তারপর দেখা যাবে। তিনি বলেন, এখানে কিন্তু বলা হচ্ছে না তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন না। সেটা তার অবস্থার ওপর নির্ভর করবে। তবে শর্ত হচ্ছে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

আইনমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এই সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়ায় দুই শর্তে দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে তাকে মুক্তি দেওয়া হোক। সরকার মানবিক কারণে সদয় হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা (উপধারা-১) অনুযায়ী এটা আইনি প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে।

স্বাগত জানালো অ্যামনেস্টি: বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে শর্তাধীন মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এক টুইটে বলা হয়, আমরা বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মানবিক বিবেচনায় শর্তাধীন মুক্তি দেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। একইসঙ্গে খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার অবাধ সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি।

টুইটে বলা হয়, যেহেতু তিনি প্রাণঘাতী অসুখে ভুগছেন, তাই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে অবাধ সুযোগ দিতে হবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন