নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত গোপালগঞ্জের তরুণী

  

পিএনএস ডেস্ক: নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত গোপালগঞ্জের এক তরুণীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান এসএম কামাল হোসেন জানান, ২০ বছর বয়সী ওই তরুণীর বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চরগোবর গ্রামে। গত ১১ জানুয়ারি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার পর মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে চিকিৎসকরা একমত হয়েছেন, সে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত।

ওই তরুণীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে জানিয়ে ডা. কামাল হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাকে অন্য রোগীদের থেকে আলাদা রাখা হয়েছে।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আগেই থেকে পরিচিত বাদুড়বাহিত নিপা ভাইরাস ‘মারাত্মক মহামারীর’ কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে সম্প্রতি সতর্ক করেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

১৯৯৯ সালে প্রথম মালয়েশিয়ায় শনাক্ত হওয়া এই ভাইরাস পরবর্তীতে ভারত ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিপা আক্রান্তদের চিকিৎসায় এখনও কোনো ওষুধ কিংবা টিকা উদ্ভাবন না হওয়ায় মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৯০ শতাংশ।

বাহক: নিপা ভাইরাস ছড়ায় মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে। বাংলাদেশে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এই সময়টাতেই খেঁজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। আর বাদুড় গাছে বাঁধা হাড়ি থেকে রস খাওয়ার চেষ্টা করে বলে ওই রসের সঙ্গে তাদের লালা মিশে যায়। সেই বাদুড় নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকলে এবং সেই রস খেলে মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এ ভাইরাস। আক্রান্ত মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে এ রোগ।

রোগলক্ষণ: এ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর ও মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। এক পর্যায়ে খিচুনিও দেখা দিতে পারে। মস্তিস্কে ভয়াবহ প্রদাহ দেখা দেয়।

সাবধানতা: নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে খেজুর গুড় ও রস, আখের রস, পেঁপে, পেয়ারা, বরইয়ের মতো ফল না খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

গোপালগঞ্জের ওই নারীর স্বামী বলেন, মাস খানেক আগে তার পরিবারের চার-পাঁচজন সদস্য খেজুরের কাঁচা রস খেয়েছিলেন। তবে অন্য কারও কোনো সমস্যা হয়নি।

এই নারী ছাড়া খুলনায় এ বছর নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত অন্য কোনো রোগীর খোঁজ পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন সুজাত আহমেদ।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech