শেরপুরে অটোভ্যান চালক রফিক হত্যার দায় স্বীকার ঘাতকের

  

পিএনএস, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুরে অটোভ্যান চালক রফিকুল ইসলাম হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন ঘাতক আব্দুস সালাম শেখ। গত মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাবিবের আদালতে সালামের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতোয়ার রহমান জানান, গত ২৫ আগস্ট অটোরিকসা চালক রফিকুল ইসলামকে (৫০) শ্বাসরোধ করে হত্যার পর শেরপুর-রানীরহাট আঞ্চলিক সড়কের সুখানগাড়ী গ্রামস্থ একটি জলাশয়ে ফেলা দেয়া হয়। এরপর অটোভ্যানটি ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায় তারা। এ ঘটনার প্রায় দুইদিন পর ২৭ আগস্ট দুপুরে স্থানীয় লোকজনের দেয়া সংবাদের ভিত্তিত্বে চালক রফিকুলের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

উক্ত ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. শিউলী বেগম বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে জেলার শাজাহানপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে খোয়া যাওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধারসহ ক্রেতা রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাবাদ করা হলে সে জানায়, শেরপুর উপজেলার মির্র্জাপুর ইউনিয়নের বিরইল গ্রামের তইমুদ্দিন শেখের ছেলে আব্দুল সালামের নিকট থেকে ১৩হাজার ৫০০টাকায় এই অটোভ্যান ক্রয় করেন। এরপর গত ১০সেপ্টেম্বর রাতে অভিযান চালিয়ে সুখানগাড়ী গ্রামস্থ শ্বশুরবাড়ি থেকে সালাম শেখকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করেন।

আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিতে সালাম শেখ জানান, উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের শেখর গ্রামের গাজীউর রহমানের ছেলে অটোভ্যান চালক রফিকুল ইসলাম প্রতিবেশি অমূল চন্দ্রের অপরাধ জগতের নানা গোপন তথ্য জেনে যান। আর এসব তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে ঘটনার দিন বিকেলে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রফিকুলের অটোভ্যানটি ভাড়া নেন তিনি। একপর্যায়ে তিনিসহ আলম নামে আরেকজন তার সঙ্গে যুক্ত হন। এরইমধ্যে রাত নেমে আসে। কৌশলে চালককে নেশাজাতীয় ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। এরপর তারা মোট তিনজন মিলে রফিকুলকে শ^াসরোধ করে হত্যা করে তার লাশ উক্ত জলাশয়ে ফেলে দিয়ে অটোভ্যানটি নিয়ে চলে যায় তারা। শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, এ হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। ঘটনায় জড়িত তিনজনের মধ্যে সালাম শেখ নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনায় জড়িত অন্যদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech