আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কিমের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক বাতিলে হতাশ

  



পিএনএস ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার নির্ধারিত বৈঠক বাতিলের ঘোষণা দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। আলোচনার দুয়ার খোলা রেখে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার উপর জোর দিয়েছেন তারা।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১২ জুন সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে বৃহস্পতিবার (২৪ মে) উনের সঙ্গে বৈঠক বাতিলের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। কিমের কাছে লেখা হোয়াইট হাউসের এক চিঠিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। চিঠিতে কিমকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার সঙ্গে বৈঠকের জন্য আমি খুবই উন্মুখ ছিলাম। দুঃখজনকভাবে, ভয়ানক ক্ষোভ এবং প্রকাশ্য শত্রুতার উপর ভিত্তি করে দেওয়া আপনার অতি সাম্প্রতিক বিবৃতির প্রেক্ষিতে আমি মনে করি এটি বৈঠকের যথার্থ সময় নয়।’ ট্রাম্প জানান, কোনও এক সময় তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। তবে সেটা কবে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি তিনি।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানান, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে তিনি ‘গভীরভাবে মর্মাহত’ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত নতুন এজেন্ডা উপস্থাপন করতে গিয়ে গুতেরেস বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরিয়ার নেতার মধ্যে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠক বাতিল হওয়ায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই পক্ষকে মাথা ঠাণ্ডা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গুতেরেস বলেন, ‘মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে যেন আমরা সবার জন্য আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি: তাহলো কোরীয় উপদ্বীপে যাচাইযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে পারি।’

ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল সিঙ্গাপুরে। বৈঠকটি বাতিলের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে দেশটি। ‘কোরীয় উপদ্বীপে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা’ অব্যাহত থাকবে বলে আশা জানিয়েছে তারা। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক টুইটার পোস্টে লিখেছে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে ১২ জুন নির্ধারিত বৈঠক বাতিল হওয়ায় সিঙ্গাপুর হতাশ। সিঙ্গাপুর আশা করে কোরীয় উপদ্বীপে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এবং সংলাপ অব্যাহত থাকবে।’

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে হতাশা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যও। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘১২ জুন ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা আর হচ্ছে না শুনে আমরা হতাশ হয়েছি।’ থেরেসা মে’র মুখপাত্র ‘কোরীয় উপদ্বীপে পূর্ণাঙ্গ, যাচাইযোগ্য এবং অপরিবর্তনীয় পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের’ জন্য একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই লক্ষ্যে পৌঁছাতে যুক্তরাজ্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করে যাবে।

রাশিয়া সফরে থাকা ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, তিনি আশা করেন, ‘ট্রাম্পের এ বক্তব্যটি চলমান সংলাপ প্রক্রিয়ার একটি ত্রুটিমাত্র।’

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্রাদিমির পুতিনও এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে আলোচনা আবারও শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, ‘আমরা বৈঠকের ওই পদক্ষেপকে কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা প্রমমনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করেছিলাম। ভেবেছিলাম, এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ পর্বের সূচনা হবে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার নেতার মধ্যে বৈঠকের পথ প্রশস্ত হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনের হাত ধরে। গত ২৭ এপ্রিল আন্তঃকোরীয় আলোচনায় দুই দেশের নেতা পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে সম্মত হওয়ার পর ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের তারিখটি নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ওই বৈঠক বাতিল হয়ে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন মুন জায়ে ইন।

ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে আরও বেশি করে সরাসরি ও নিবিড় আলোচনার উপর জোর দিয়েছেন মুন। তিনি বলেন, বৈঠক বাতিল হয়ে যাওয়ার কারণে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কোরীয় উপদ্বীপের দেরি করা ঠিক হবে না।

উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল এক ঐতিহাসিক বৈঠকে কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত রাখতে সম্মত হন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসেডন্ট মুন জায়ে ইন। পরদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান,তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসবেন তিনি। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইয়োন ইয়াং চ্যান জানান,মে মাসে পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করে দেবে উত্তর কোরিয়া। পুঙ্গেইরি পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার সাক্ষী রাখার জন্য বেশ কয়েকটি দেশ থেকে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানায় পিয়ংইয়ং। ২৪ মে সাংবাদিকদের সামনে পরমাণু কেন্দ্রটি ধ্বংসের দাবি করে উত্তর কোরিয়া। কিন্তু এদিনই ১২ জুনের বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে কিমকে চিঠি দেন ট্রাম্প।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech