আন্দোলন ও নির্বাচন দুই প্রস্তুতিই রাখুন

  





পিএনএস ডেস্ক: আন্দোলন ও নির্বাচন—দুটিরই প্রস্তুতি রাখতে বিএনপি দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছে। নির্বাচনে অংশ নেবে কি নেবে না, সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত করেনি বিএনপি। তবে ‘ভিশন-২০৩০’-এর আলোকে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির পাশাপাশি দলের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকার খসড়াও করে রেখেছে বিএনপি। এর উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনে অংশ নিতে গেলে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে যাতে হিমশিম খেতে না হয়। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দলের এ অবস্থানের কথা জানা গেছে।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের স্থায়ী কমিটির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেন। প্রতিটি আসনে আগ্রহী প্রার্থীর সাক্ষাৎকারের সময় সংশ্লিষ্ট জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বোর্ডে ডাকা হয়। তবে এবার সমস্যা হলো, নির্বাচনের আগে মুক্তি না মিললে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বোর্ডে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। এ ছাড়া আরো কিছু কারণে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে এখনো এক ধরনের দোটানায় রয়েছে। ফলে কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো বার্তা এখনো দেওয়া হয়নি বলে নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। তবে তাঁরা বলেন, সারা দেশের জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি নেতাদের কাছে সম্প্রতি ‘আন্দোলন ও নির্বাচন’ একসঙ্গে কৌশলগত এই দুই নির্দেশনা গেছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপি মূলত আন্দোলনে আছে। কারণ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া জনগণ এই নির্বাচন গ্রহণ করবে না। দ্বিতীয়ত, বিএনপির মতো বড় দলে সব সময়ই নির্বাচনের প্রস্তুতি থাকে এবং এখনো আছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘আন্দোলন ও নির্বাচন দুটিতেই বিএনপি আছে—এটি বলা যায়। তবে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি না হলে জনগণ আন্দোলনকেই বেছে নেবে।’

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত শনিবার বলেন, ‘আন্দোলন ও নির্বাচন দুই প্রস্তুতির মধ্যেই আমরা আছি। বিএনপির দাবি না মানা হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে না। ফলে আন্দোলনটাই আপাতত গুরুত্বপূর্ণ।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেন, ‘নিরপেক্ষ সরকার, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আমরা আন্দোলনে আছি। তবে বিএনপি একটি বৃহত্তম দল এবং অনেকবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ফলে প্রস্তুতি এমননিতেই আছে।’

সূত্র মতে, আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য এজেন্টদের একটি তালিকা করতে লন্ডন থেকে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। তালিকাটি খুবই গোপন ও সতর্কতার সঙ্গে করতে বলেছেন তিনি। কারণ বিএনপির কাছে খবর আছে, বিগত উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির এজেন্টদের তালিকা ধরে ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করছে। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে কিছুদিন আগে দেওয়া এক চিঠিতে প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা থেকে বিএনপি দলীয় দুজন করে নির্বাচনী এজেন্টের নাম দেওয়া হয়েছে; যাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক বেসরকারি সংস্থা এনডিআই (ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট)।

জানতে চাইলে বরিশাল মহানগরী বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘আন্দোলন ও নির্বাচন দুটির ব্যাপারেই দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা আছে। তবে আমাদের মূল গুরুত্ব আন্দোলনের দিকে। পুরনো সংসদ সদস্য হিসেবে পূর্বঅভিজ্ঞতা অনুযায়ী প্রস্তুতি রাখছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য কারা কাজ করছে এটি জানতে পারলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুব ডিস্টার্ব করে। এ জন্য গোপনে করতে হচ্ছে।’

নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবীর খোকন বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে আন্দোলন ও নির্বাচন দুটিরই প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ করছি।’ নির্বাচনী এজেন্টের প্রশিক্ষণের জন্য এনডিআইয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী লোক পাঠানোর কথাও স্বীকার করেন খোকন।

খুলনা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে আন্দোলন ও নির্বাচন দুটির ব্যাপারেই প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা আছে। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছি। কমিটি পুনর্গঠনসহ নানাভাবে দলকে সক্রিয় করা হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হলো গায়েবি মামলা দিয়ে সংগঠনকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ বাড়ি বাড়ি হানা দিচ্ছে। নির্বাচন প্রস্তুতিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।’ এর সমাধান চেয়ে ২৫ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।আগামী ২৭ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার খুলনা যাচ্ছেন। তাঁর কাছেও সাক্ষাৎ চেয়ে সমাধান চাওয়া হবে—জানান খুলনা বিএনপির এই স্থানীয় নেতা।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন খানও কেন্দ্র থেকে আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিএনপি সমর্থক সুধীসমাজের একদল প্রতিনিধি এবং সাবেক আমলা গত ১০ মে খালেদা জিয়া ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০-এর আলোকে ওই ইশতেহার তৈরি করছেন। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ায় এখন ফ্রন্টের ১১ দফা লক্ষ্য ওই ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ইশতেহার তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একসঙ্গে নির্বাচন করলে অবশ্যই ওই লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার তৈরি হবে।

গত বছর ১০ মে এক অনুষ্ঠানে ‘ভিশন-২০৩০’ নামের এক রূপকল্পে ৩৭টি বিষয় বা ইস্যুতে মোট ২৫৬ দফা প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করে বিএনপি। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা কমিয়ে সরকারের নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠাসহ ইতিবাচক অনেক বিষয়ের কথা উল্লেখ করা হয়। গত ১৩ অক্টোবর বিএনপির সঙ্গে অন্য তিনটি দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘোষিত ১১ দফা লক্ষ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ ও ন্যায়পাল নিয়োগ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গঠনসহ আরো অনেক প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সূত্র: কালের কণ্ঠ

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech