ওপার বাংলায় ‘মেসিমহল’

  

পিএনএস ডেস্ক : চলতি মাসের ২৪ শে মেসির জন্মদিন৷ সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের উৎসব৷ দুইয়ের উপলক্ষ্যে সেজে উঠেছে ‘মেসিমহল’৷ সেই মেসিমহলেই চলতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি৷

না এ প্রস্তুতি বিশ্বকাপের নয়, জন্মদিন সেলিব্রেশনের৷ সামনে আর্জেন্তাইন ফুটবল রাজপুত্রের জন্মদিন৷ মেনু থেকে শুরু করে বিশেষ অনুষ্ঠানে কী কী আয়োজন রাখা হবে সেই নিয়ে প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে পাত্র পরিবার৷ ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের জন্য তাঁদের বাড়ি সেজে উঠেছে নীল সাদা রঙে৷ দূর থেকে যা দেখলে মনে হতেই পারে, খাস পশ্চিমবঙ্গে এযেন এক আর্জেন্তাইন মিউজিয়াম৷ মেসি মিউজিয়াম বললেও ভুল বলা হবে না৷

বিশ্বকাপ জ্বরে বুঁদ হয়ে ছাদে মারাদোনার দেশের পতাকা ওড়ানো আগে অনেক দেখেছেন৷ আর্জেন্তিনার ম্যাচের দিনগুলোর পাড়ার পাড়ার মেসি অনুরাগীদের বিশালাকার ফ্যাগ লাগিয়ে হুল্লোড়ে মাততেও দেখেছেন বহুবার৷ উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার অলিতে গলিতে বিশ্বকাপ চলাকালীন এই ছবি খুব পরিচিত৷ কিন্তু আস্ত একটা বাড়ির প্রতিটি কোণায় কোণায় মেসি-আর্জেন্তিনা! সেই সঙ্গে তাঁর নীল সাদা জার্সির রঙে মুড়ে ফেলা হয়েছে দরজা-জানলা-দেওয়াল৷ বাদ পড়েনি বাড়ির আলমারিও৷ ছাদের জলের ট্যাঙ্কটিও রাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে আর্জেন্তাইন জার্সির রঙে৷ এমন নজির বঙ্গে বোধহয় এই প্রথম৷ এযেন বঙ্গেই এক টুকরো আর্জেন্তিনা৷



তবে কলকাতায় নয়, এ জিনিস দেখতে গেলে আপনাকে জেতে হবে উত্তর ছব্বিশ পরগণায়৷ বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্তিনা ভক্ত শিবশঙ্কর পাত্রের বাড়িই এখন উত্তর চব্বিশ পরগণার ইছাপুরের নবাবগঞ্জের সেরা আকর্ষণ৷ প্রতিবেশীদের পাশাপাশি দূর থেকে লোকে এসে দেখা যাচ্ছে শিবশঙ্করের এই নীল-সাদা বাড়ি৷ ব্যারাকপুরে এসে অটো কিংবা টোটাতে আর্জেন্তাইন বাড়ি যাবো বললেই আপনাকে সঠিক ঠিকানায় পৌঁছে দেবে ওরা৷ পাড়ায় শিবে নামে পরিচিত এই আর্জেন্তাইন ভক্ত চায়ের দোকান চালান৷ বাড়ির নীচেই রয়েছে তাঁর টি স্টল৷

আর্জেন্তিনা নিয়ে শিবের এই ‘পাঙলামি’ এক দিনের নয়, ২০০৯ সালে মেসি যখন কলকাতায় এসেছিলেন সেবারই নীল সাদা রঙে বাড়ি রাঙিয়ে তুলেছিলেন শিবে৷ এরপর ২০১৪ বিশ্বকাপের সময় বাড়িকে নতুন করে মেসির দেশের জার্সিতে রঙে রাঙিয়ে তোলেন৷ দুয়ারে আরও একটা বিশ্বকাপ৷ তাই এবার ফের পাত্র বাড়িকে উৎসবের আবহ৷ নতুন করে সাজিয়ে তুলেছেন শিবশঙ্কর৷

শুধু বাড়ি সাজানো নয়, প্রতি বছর আর্জেন্তাইন রাজপুত্রের জন্মদিনও সেলিব্রেট করে এই পরিবার৷ বাড়িতে মেসির জন্য তৈরি হয় ভোগ৷ ভগবান মেসি তাঁর বাড়িতে কোনও দিনও আসেননি তবু মনে প্রাণে ২৪ জুন আসলেই পাত্র পরিবারে তাঁদেরই একজনের জন্মদিন পালনে মেতে ওঠে৷শেষ কয়েক বছরে মেসি এখন তাঁদের ঘরের ছেলে৷ জন্মদিন আসলেই নিজে হাতে রান্না করেন মেসির ছবির সামনে বাহারি পদ সাজিয়ে দেন স্বপ্নাদেবী৷ এবছরও কোনও অনিয়ম হচ্ছে না৷ মেন্যুতে শুধু বিশেষ কিছু পরিবর্তনে ভাবনা রয়েছে শিবের৷

২৪ জুন ৩১শে পা রাখবেন মেসি৷ সেই সময় বিশ্বকাপের ম্যাচ থাকবে৷ তাই মেসির জন্মদিনের ভোজে তেল-ঝাল-মশলাবিহীন রান্নাতে ঝুঁকছেন পাত্র পরিবার৷ শিবে-স্বপ্নার চেয়েও মেসির জন্মদিনের মেন্যু নিয়ে উৎসাহ বেশি তাঁদের দুই সন্তান নেহা-শুভমের৷ ছেলে শুভমের উপদেশ মাংসে ঝাল কম চাই৷ মেয়ের আবার আবদার, ডালে মাছের মাথা কম দিতে হবে৷ কারণ একটাই বিশ্বকাপের সময় জন্মদিনেও ফুরসত পাবেন না, তাড়াহুড়োতে তাই কাঁটা বাছার সময় নেই মেসির৷ বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই তাই মেন্যুতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে৷

থাকছে বিশেষ কেকের ব্যবস্থা৷ লিও ৩১শে পা দিচ্ছেন বলে এবার কাটা হবে ৩১ পাউন্ডের কেক৷ বাচ্ছাদের উপহার দেবেন বলে ইতিমধ্যেই কিনে ফেলেছেন ১০০টি মেসি জার্সি৷ সেদিন প্রতিবেশীদের জন্য বিশেষ ভোজের আয়োজন৷ অন্য বছর বিশেষ এই দিনে রক্তদান শিবির আয়োজন করেন শিবে৷ এবার অবশ্য বিশ্বকাপের জন্য সেই ব্যবস্থা রাখছেন না৷

তবে মেসির ম্যাচের দিন থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা৷ স্থানীয় এক হনুমান মন্দিরের বজরঙ্গবলির বাঁ-পায়ের সিঁদুর চেয়ে পাঠিয়েছেন শিবে৷ ম্যাচের দিনগুলোর মেসির ছবি সামনে রাখা রাখবে সেই বিশেষ সিঁদুর৷কেন বাঁ-পা? ঐ পায়েই যে কামাল দেখান ফুটবলের যাদুকর৷ শিবের তাই বিশ্বাস বজরঙ্গবলির পাঁ পায়ের আর্শীবাদী সিঁদুর রাখলে ম্যাচের দিন গোল করবেন মেসি৷

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech