‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-৩ ও ৪ নিয়ে এখনই ভাবতে হবে’

  

পিএনএস ডেস্ক : ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সভ্যতার মহাসড়ক হচ্ছে ডিজিটাল সংযুক্তি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২-এ কী কী থাকা উচিত এবং ১৫ বছর পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর লাইফ টাইম শেষ হওয়ার বিষয় মাথায় রেখে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে। প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-৩ ও ৪ নিয়েও এখন থেকেই ভাবতে হবে।

প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ যথাসম্ভব ত্রুটিমুক্ত, প্রয়োজনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং চাহিদা মেটানোর মতো অবস্থানে কাজে লাগানোর উপযোগী করতে বিশেষায়িত বিশেষজ্ঞ পরামর্শের ভিত্তিতে পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ কমিউনিকেশন্স স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল)কে নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।

বুধবার ঢাকায় আইইবি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২-এর বিষয়ে মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বে বাংলাদেশের অবস্থান এমন একটি জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রকল্পের জন্য মেধা খাটানোর দরকার হয়, অর্থের জন্য চিন্তা করতে হয় না।

বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামনে এগুতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, স্যাটেলাইট পরিচালনায় আমাদের ছেলেমেয়েদের দক্ষতা অর্জনের যে ক্ষমতা, সেটাই আমাদের শক্তি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ দিয়ে আমরা কী অর্জন করতে চাই আজকের মতবিনিময় থেকে অর্জিত ফলাফল ও পরামর্শ পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বেতবুনিয়ায় ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নে বাংলাদেশের সদস্যপদ অর্জনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিস্ময়কর দূরদর্শিতা বলে উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু মেধাভিত্তিক জাতি বিনির্মাণে প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করেন। দেশের খাদ্যের যোগান দেয়াটাও তখন সহজসাধ্য ছিল না। সে দেশে উপগ্রহের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা কী পরিমাণ দূরদর্শিতার বিষয় তা ভাবতে গেলেও অবাক লাগে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিপ্লবের যে সূচনা করে গেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় তার কন্যার হাতে গত দশ বছরে বাংলাদেশ বিশ্বে ডিজিটাল বিপ্লবের পথপ্রদর্শক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন বলে উল্লেখ করেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের কারণে সেই কর্মসূচিটি আর বাস্তবায়িত হয়নি কিন্তু ২০০৯ সালে তিনি ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশকে ৫৭তম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী গর্বিত দেশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। অগ্রগতির প্রতিটি সূচকে আজ বাংলাদেশ বিশ্বেও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

মন্ত্রী বলেন, মহাকাশ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঘরে ডিজিটাল সংযোগ পৌঁছে দেয়ার জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে তার অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে হবে। বিসিএসসিএল চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech