প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে, অতঃপর আত্মহত্যা

  

পিএনএস ডেস্ক : রাজশাহীর তানোরে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে প্রেম করে বিয়ের দুই মাসের মাথায় সাহানাজ বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। থানা মোড়ের শুভ স্টুডিওর মালিক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে চলতি বছরের ২৫ জুন বিয়ে হয় সাহানাজ বেগমের। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মহানগর ক্লিনিকের ৩য় তলার ভাড়া করা বাসা থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

এ ঘটনার পর থেকে প্রেমিকার স্বামী থানা মোড়ের শুভ স্টুডিও’র মালিক মোস্তাফিজুর রহমান পলাতক রয়েছেন। সাহানাজ বেগমের তানোর উপজেলার কামারগাঁ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে।

এলাকাবাসীসহ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই প্রবাসী স্ত্রী (এক মেয়ে সন্তানের জননী) সাহানাজ বেগম (২২) মেয়েসহ তার মাকে নিয়ে উপজেলার উত্তর পার্শ্বের জনৈক ইউনুস আলীর বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন।

প্রবাসী স্বামী প্রতি মাসেই নিয়মিত ভাবেই তার কাছে বিকাশে টাকা পাঠাতেন। বিকাশ থেকে ওই টাকা তোলার জন্য প্রবাসীর স্ত্রী সাহানাজ বেগম থানা মোড়ের শুভ স্টুডিওতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন।

এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে দৌহিক সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং স্টুডিও’র মালিক মোস্তাফিজুর রহমান ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এমন খবর শুনে প্রবাসে থাকা স্বামী তার স্ত্রী সাহানাজ বেগমকে ডিভোর্স দিয়ে মেয়েকে দাদার বাড়ি পাঠিয়ে দেন এবং শাশুড়িও চলে যান তার নিজ বাড়িতে।

এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ মোস্তাফিজুরের কাছে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তানোর থানায় অভিযোগ করেন। কিন্তু কোনো প্রমাণপত্র বা সাক্ষি না থাকায় টাকা আদায় করা যায়নি।

চলতি বছরের ২৫ জুন ওই গৃহবধূ বিয়ের দাবিতে থানা মোড়ের শুভ স্টুডিওতে অনশন শুরু করার পর শুভ স্টুডিও’র মালিক মোস্তফিজুর রহমান ওই গৃহবধূ প্রেমিকাকে বিয়ে করে মহানগর ক্লিনিকের ৩য় তলার ভাড়া করা বাসায় সংসার শুরু করেন।

এ অবস্থায় গত কোরবানি ঈদের পর থেকে মোস্তাফিজুর তার প্রেমিকা স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ ও যাতায়াত বন্ধ রাখেন এবং গত (৯ আগস্ট) রাজশাহীর কোটের মাধ্যমে তার প্রেমিকা ওই গৃহবধূ সাহানাজকে ডিভোর্স দেন।

বৃহস্পতিবার ওই গৃহবধূ মোস্তফিজুরের ডিভোর্সপত্র হাতে পান। আজ শুক্রবার দুপরের যেকোনো একসময় ভেতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে নিজ ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন গৃহবধূ প্রেমিকা সাহানাজ বেগম।

বিকাল ৪টার দিকে ক্লিনিকের লোকজনসহ প্রতিবেশীরা ডাকা-ডাকি করেন। কিন্তু সাহানাজ ঘরের দরজা না খোলায় তানোর থানা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ সন্ধ্যা ৬টার দিকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। তবে, প্রেমিক মোস্তাফিজুরের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তার মোবাইল ফোন ও স্টুডিও বন্ধ রয়েছে।

তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, ময়না তদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। সাহানাজের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। রাত সাড়ে ৯টা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন